• Cricket
  • International Cricket
  • ভারতের বিশ্বরেকর্ড ছুঁয়ে ফেলল পাকিস্তান, সৌরভদের ২৪ বছরের পুরনো নজিরে ভাগ বসালেন শাহিনেরা

    এক দিনের ক্রিকেটে কোনও প্রতিযোগিতার ফাইনালে রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড এত দিন ছিল ভারতের একক দখলে। ২০০২ সালে ন্যাট ওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে লর্ডসে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরা।

    ত্রিদেশীয় সিরিজ়ের ফাইনালে বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল পাকিস্তান। ফখর জ়ামানের শতরানের সুবাদে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ৩২৬ রানের লক্ষ্য সফল ভাবে তাড়া করলেন শাহিন আফ্রিদিরা। এই জয়ে ভারতের ২৪ বছরের পুরনো বিশ্বরেকর্ড ছুঁল পাকিস্তান। ২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির পর প্রথম কোনও এক দিনের প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হল পাকিস্তান।

    এক দিনের ক্রিকেটে কোনও প্রতিযোগিতার ফাইনালে রান তাড়া করে জয়ের বিশ্বরেকর্ড এত দিন ছিল ভারতের একক দখলে। ২০০২ সালে ন্যাট ওয়েস্ট ট্রফির ফাইনালে লর্ডসে ৩২৬ রান তাড়া করে জিতেছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়েরা। শনিবার লাহৌরে পাকিস্তানও শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে একই রান সফল ভাবে তাড়া করে ২৪ বছর পর বিশ্বরেকর্ড স্পর্শ করল। এক দিনের ক্রিকেট প্রতিযোগিতার ফাইনালে রান তাড়া করে জেতার তালিকায় তৃতীয় স্থানেও থাকল ভারতের নাম। ১৯৯৮ সালে ঢাকায় পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ৩১৫ রান তাড়া করে জয় পেয়েছিল ভারত।

    ত্রিদেশীয় এক দিনের সিরিজ়ের ফাইনালে প্রথমে ব্যাট করে শ্রীলঙ্কা ৮ উইকেটে ৩২৫ রান করে। শ্রীলঙ্কাকে ভাল জায়গায় পৌঁছে দেয় ওপেনার কামিন্দু মেন্ডিসের ১২৮ বলে ১৩১ রানের ইনিংস। ১২টি চার এবং ২টি ছয় মারেন তিনি। অন্য ওপেনার অভিষ্কা ফার্নান্ডো করেন ৪৯ বলে ৩৮ রান। তিন নম্বরে নেমে রান পাননি অধিনায়ক কুশল মেন্ডিস (৮)। চার নম্বরে নেমে কামিন্দুর সঙ্গে জুটি বেঁধে দলের ইনিংস এগিয়ে নিয়ে যান পবন রত্নায়েকে। তিনি করেন ৬৫ বলে ৭৭ রান। ৮টি চার এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। শ্রীলঙ্কার আর কেউ বলার মতো রান পাননি।

    পাকিস্তানের হয়ে সলমন আঘা ৪৪ রানে ২ উইকেট নেন। ৫০ রানে ২ উইকেট আফ্রিদির। ৬০ রান দিয়ে ২ উইকেট নেন হ্যারিস রউফ। নাসিম শাহ ২ উইকেট নিলেও ১০ ওভারে খরচ করেন ৮০ রান।

    জয়ের জন্য ৩২৬ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ওপেনার মাজ় সাদাকত (৫) এবং বাবর আজ়ম (০) দ্রুত আউট হয়ে যান। ১৪ রানে ২ উইকেট হারানোর পর পাক ইনিংসের হাল ধরেন ওপেনার জ়ামান এবং চার নম্বরে ব্যাট করতে নামা সাদ বেগ। জ়ামানের ৯৯ বলে ১২৭ রানের ইনিংসে রয়েছে ১১টি চার এবং ৬টি চার। বেগ করেন ৭৫ বলে ৭৪। ১১টি চার মেরেছেন তিনি। তৃতীয় উইকেটের জুটিতে ১৪৯ রান যোগ করে পাকিস্তানকে লড়াইয়ে ফেরান তাঁরা। তবে সলমন (১৭) দ্রুত আউট হয়ে যাওয়ায় আবার কিছুটা চাপে পড়ে যায় পাকিস্তান। ৩ উইকেটে ২২০ থেকে ৫ উইকেটে ২৩০ হয়ে যায় আয়োজকেরা। যদিও হাল ছাড়েনি পাকিস্তান। ছয় নম্বরে নামা হাসান নওয়াজ় এবং সাত নম্বরে নামা আরাফত মিনহাস পাকিস্তানকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দেন। মিনহাস ৩১ বলে ৬১ রানের আগ্রাসী ইনিংস খেলেন। ৩টি চার এবং ৪টি ছক্কা মারেন। ২২ গজের অন্য প্রান্তে নওয়াজ অপরাজিত থাকেন ৪৫ বলে ৩৭ রান করে। শেষ পর্যন্ত ৪৮.৩ ওভারে ৭ উইকেটে ৩৩১ রান তুলে ম্যাচ এবং ত্রিদেশীয় সিরিজ় জিতে নেয় পাকিস্তান।

    শ্রীলঙ্কার সফলতম বোলার দিলশান মধুশঙ্কা ৬৩ রানে ৩ উইকেট নিয়েছেন। ৭২ রানে ২ উইকেট অসিথা ফার্নান্ডোর। ৫৭ রানে ১ উইকেট মাহিশ থিকসানার। এ ছাড়া ৫৮ রান দিয়ে ১ উইকেট নিয়েছেন দুনিথ ওয়েল্লালাগে।

    ফাইনালে দু’দল মিলে করেছে ৬৫৬ রান। এক দিনের ক্রিকেটে কোনও প্রতিযোগিতার ফাইনালে এটাই সর্বোচ্চ রান। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে এক দিনের ক্রিকেটে সফল রান তাড়া করার ক্ষেত্রে এই ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নজির তৈরি করেছে পাকিস্তান। ২০২৩ সালের বিশ্বকাপে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে ৩৪৫ রান তাড়া করে জিতেছিল পাকিস্তান। সেটাই সর্বোচ্চ।

    Leave a Reply

    Your email address will not be published. Required fields are marked *

    1 min